Author Topic: অফিসের পোশাক আশাক  (Read 1325 times)

Jewel

  • Administrator
  • Lieutenant
  • *****
  • Posts: 149
    • View Profile
    • Email
অফিসের পোশাক আশাক
« on: July 23, 2012, 05:49:23 AM »
অফিসে কেমন হবে আপনার পোশাক, আর পোশাকে ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলবেন কিভাবে, রইল তার সুরাহা

সাধারণ নিয়ম

অফিসে সাধারণত তিন ধরনের পোশাকরীতি দেখা যায়

নির্ধারিত ডিজাইন ও রং (ইউনিফর্ম), যেখানে অফিসের প্রত্যেকের এক বা একাধিক নির্দিষ্ট পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শ্রমিকের জন্য সুনির্দিষ্ট ডিজাইন ও রঙের পোশাক নির্ধারণ করা থাকে।
হশুধু পোশাকের ধরন নির্ধারিত থাকে (রং ও ডিজাইন নির্ধারিত নয়), যেখানে সুনির্দিষ্ট ইউনিফর্ম বলে কিছু নেই; কিন্তু কিছু নীতিমালা বলা আছে, যা মেনে চলতে হবে।
হযেমন খুশি তেমন, যেখানে কোনো কিছুই বলা নেই, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি বুঝে ঋতুভেদে আপনার পোশাক নির্বাচনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

ইউনিফর্ম না থাকলে

অফিসে উগ্র রঙের, অতি উজ্জ্বল, চাকচিক্যময় কোনো পোশাক পরা উচিত নয়।
শালীনতা বজায় রেখে পোশাক নির্বাচন করা উচিত। শর্টস, স্লিভলেস, লার্জ ভি-নেক বা পাতলা পোশাক নির্বাচন করা উচিত নয়।
হাই হিল বা হাই নেক জুতা পরা উচিত নয় এবং যেসব জুতা পরলে হাঁটার সময় খুব শব্দ হয়, সেসব জুতা এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রতিষ্ঠানের ধরন, প্রচলিত সংস্কৃতি ও অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৃষ্টিনন্দন পোশাক নির্বাচন করা উচিত।
পুরুষের ক্ষেত্রে অফিসে হাফহাতা শার্ট, জিনসের প্যান্ট ও স্যান্ডেল এড়িয়ে চলা ভালো। স্যান্ডেল যদি একান্ত পরতেই হয় তাহলে যতটা সম্ভব পা ঢাকা থাকে এমন স্যান্ডেল পরা উচিত। উগ্র রং বাদ দিয়ে সাদা, নীল, সবুজ, কালো, ধূসর এবং এই রংগুলোর শেড দিয়ে শার্ট পরুন। কালো, নেভি ব্লু, বাদামি, ধূসর এবং এই ধরনের রঙের প্যান্ট পরুন। অফিসে সাধারণত হালকা রঙের শার্ট ও গাঢ় রঙের প্যান্ট পরা উচিত। এটা দৃষ্টিনন্দন ও মানানসই। আর চটজলদি দরকার পড়লে কোট-টাই যোগ করে জরুরি সময়ে তৈরি হয়ে যাওয়া যায়।
ব্যতিক্রম
এখন অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আরামদায়ক ও কাজ করতে সহায়ক যেকোনো পোশাক অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মিটিংয়ে স্যুট, কোট-টাই বা ফরমাল ড্রেস ব্যবহার করা হয় আর টাই ছাড়া শুধু ব্লেজার দিয়ে স্মার্ট-ক্যাজুয়াল পরেন কেউ কেউ। দুটিই পরিস্থিতিভেদে বেশ মানানসই।

ব্যক্তিত্ব প্রকাশে দশ মন্ত্র

এক.
পোশাক নির্বাচনে দুই স্তরে মোট ছয়টি বিষয় প্রাথমিকভাবে মাথায় রাখা হয়। প্রথমত, প্রতিষ্ঠানের ধরন, প্রচলিত সংস্কৃতি ও আপনার অবস্থান_এই তিনটি বিষয় ভালো বুঝুন এবং পোশাকে এর সমন্বয় কিভাবে ঘটানো যায় তা ভাবুন। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে প্রচলিত ফ্যাশন, আপনার দেহের গঠন ও ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই এবং ঋতু অনুযায়ী এমন পোশাক হতে হবে, যা ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়।

দুই.
এখন ফ্যাশনবিষয়ক অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিন, লেখালেখি, বই ইত্যাদি কোনোটিরই কমতি নেই। পোশাকের স্টাইল, হালচাল, সময়ের ব্যবধানে, ঋতুভেদে প্রতিনিয়ত পাল্টায়। নজর রাখুন এবং নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখুন।

তিন.
অফিসে দামি পোশাক পরতেই পারেন; কিন্তু দামের ব্যাপারটি মাথায় না রেখে পোশাকটি কতটা রুচিসম্মত এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই তা আগে বিবেচনা করুন।

চার.
পোশাক পুরনো হতে পারে; কিন্তু কখনো যেন নোংরা না হয়। ঝকঝকে পরিষ্কার, মাড় দেওয়া (পোশাক বুঝে), ইস্ত্রি করা পরিপাটি পোশাক পরুন।

পাঁচ.
কাজের সঙ্গে মানানসই ও আরামদায়ক পোশাক পরুন। কাজের চেয়ে পোশাক যেন বেশি গুরুত্ব না পায়। পোশাক যেন আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে এমন ব্যবধান তৈরি করে না দেয়, যা দলগত কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পারিপাশ্বর্িক এসব খুঁটিনাটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

ছয়.
আপনার পদের অন্য সহকর্মীরা কী ধরনের পোশাক পরছেন খেয়াল করুন। পোশাক নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামবেন না। নিজের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরিতে পোশাক নির্বাচন করুন।

সাত.
পোশাকের সঙ্গে আছে নানা অনুষঙ্গ, যেমন_অলংকার, ঘড়ি, জুতা, সুগন্ধি, চুলের কাটিং, মেক-আপসহ অনেক কিছু। সঙ্গে থাকে আরো ব্যবহার্য জিনিসপত্র, যেমন_ছাতা, ক্যাপ, ব্যাগ ইত্যাদি। এগুলো সঠিকভাবে নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চুলের কাটিং, অলংকার ও সুগন্ধি। এ সব কিছুই পোশাকের সঙ্গে রুচিশীল এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হওয়া দরকার।

আট.
পর পর দুই দিন একই পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন। এতে যেমন নতুনত্ব আছে, তেমনি আছে বৈচিত্র্য। একেক দিন একেক পোশাক, এভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পরুন।

নয়.
অন্যকে অনুসরণ না করে চেষ্টা করুন নিজে পোশাক নির্বাচন করতে। এমনভাবে করুন, যাতে অন্যরা আপনাকে অনুসরণ করে। এ প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করতে হলে ফ্যাশন, প্রতিষ্ঠান ও আপনাকে কেমন লাগবে_এই তিনটি বিষয়ে আপনাকে আসলেই দক্ষ হতে হবে।

দশ.
নতুন পোশাক পরে আপনাকে কেমন লাগছে, তার সঠিক মতামত সংগ্রহ করুন। সে অনুযায়ী পরবর্তী পোশাক নির্বাচন করুন। পোশাক নির্বাচনে প্রয়োজনবোধে প্রশিক্ষণও নিতে পারেন, যা আপনার দেহের গঠন ও ত্বকের রং অনুযায়ী অফিস পোশাক, পার্টি পোশাক, ভ্রমণ পোশাক, ঋতুভেদে পোশাক ইত্যাদি বিষয়ে আপনাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।